শাসরুদ্ধকর ম্যাচে সারা বাংলাদেশ স্তব্ধ, কাঁদিয়ে জিতল পাকিস্তান

বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া এযাবতকালের বিশাল ৩২৭ রান চেজ করতে আফ্রিদির
শক্তিশালী হাতের মারে জয় ছিনিয়ে নিল পাকিস্তান! তবে অজস্র ঘাম ঝরিয়ে আর
দুশ্চিন্তার পাহাড় ডিঙিয়ে তবেই বিজয়ের প্রান্ত ছুলো পাকিস্তান। গত এশিয়া
কাপের ফাইনালে যেদিন ২ রানের আক্ষেপে কেঁদেছিল সারা বাংলাদেশ তেমনি আজও সেই
পাকিস্তানের বিপরীতেই রানের পাহাড় গড়েও ক্রন্দন কপোল পেলনা প্রতিশোধের
মধুর স্মৃতি!

মুশফিকের তালু থেকে নিস্তার পেলেও শেষ রক্ষা হয়নি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা শহীদ
খান আফ্রিদির। রান আউট হয়ে তার দানবীয় ইনিংসটি শেষ হয় ৫৯ রানে। তবে মাত্র
২৫ বলে ৭ ছক্কা এবং ২ চারের মারে স্বাগতিকদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে বিজয়
নিশ্চিত করে তবেই আধো-ইঞ্জুরিতে রান আউট হয়ে ফিরে যান সাইড বেঞ্চে।


মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট
করতে নেমে এনামুল হকের শতকে ৩ উইকেটে ৩২৬ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪৯.৫
ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।


তাই মিরপুরে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বাজে ফিল্ডিং ও ক্যাচ মিসের মহড়া প্রদর্শনের পর হার তিন উইকেটে।

এই পরাজয়ে কাগজে কলমেও এবারের টুনামেন্টে বাংলাদেশে সব সম্ভাবনার সমাপ্তি
ঘটল। অন্য দিকে সাগ¦তিগদের হারিয়ে টানা তিন জয়ে ফাইনালে উঠল পাকিস্তান।

আহমেদ শেহজাদের সেঞ্চুরীর পর আফিদ্রির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মত এশিয়াকাপের শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচের টিকেট পেল পাকিস্তান।

মাত্র ২৫ বলে আফিদ্রির ৬৯ রানে ভর দিয়ে এক বল ও তিন উইকেট হাতে রেখে ৩২৯ রান করে জয় নিশ্চিত করে দলটি।


এর আগে ৩২৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। আজ মিরপুরে এশিয়া কাপের
ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফসেঞ্চুরির সুবাদে টাইগাররা দুর্দান্ত
ব্যাটিং করে ৩ উইকেটে এই রান করে। তাদের ব্যাটিং তাণ্ডবে খেই হারিয়ে ফেলে
পাকিস্তান। আনামুল হকের দুর্ধর্ষ সেঞ্চুরির পর শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের
ব্যাটসম্যানেরা রানের বন্যা বইয়ে দেয়। তারা এ সময় মাত্র এক উইকেট হারিয়ে
করে ১২১ রান। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও সাসপেন্ডের বাধা কাটিয়ে মাঠে নামা
সাকিব আল হাসান ঝড়ো ব্যাটিং করে দলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন।


এখন এটাই একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটাই বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ রান।


বাংলাদেশের হয়ে উড়ন্ত সূচনা করেন ইমরুল কায়েস ও আনামুল হক। ইমরুল ৫৯
রানে আউট হয়ে গেলেও এনামুল হক ও মমিনুল হক রানের চাকা চমৎকারভাবে সচল
রাখেন। ঠিক ১০০ করে রান আউট হন আনামুল। ১৩২ বলের ইনিংসে তিনি ৬টি চার ও ১টি
ছক্কা হাঁকান। হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুমিনুল হক ও মুশফিক। সাকিব ১৬ বলে
৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।


পাকিস্তান ৮ বোলার ব্যবহার করেও সাফল্য পায়নি। কেবল মোহাম্মদ হাফিজ ১০
ওভার বল করে ২৭ রান দেন। অন্য সবাই বেধড়ক পিটুনি খেয়েছেন। আর আবদুর রেহমান
কোনো বল না করেই ৮ রান দেয়ার লজ্জায় মুখ লুকিয়েছেন। ১১তম ওভারে বল করতে এসে
দুটির বেশি বিমার দেয়ায় তাকে বল করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আম্পায়ার।
তবে যে তিনটি বল করেছেন, সবগুলোই হয়েছে নো বা বিমার। আর তা থেকে বাংলাদেশের
ব্যাটসম্যানেরা ৮ রান নেয়। পাকিস্তানি বোলারদের হতাশা আরো বাড়ে জঘন্য
ধরনের ফিল্ডিং।180803


আফগানিস্তানের কাছে পরাজয়ের পর এই ম্যাচটি বাংলাদেশের কাছে হারানো
মর্যাদা পুনরুদ্ধারের অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভালো করার জন্য দলে
পাঁচটি পরিবর্তন আনা হয়েছে।


নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসানও দলে ফিরেছেন।


দুই দলে যারা রয়েছেন


বাংলাদেশ : আনামুল হক, ইমরুল কায়েস, মমিনুল হক, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল
হাসান, নাসির হোসেন, জিয়াউর রহমান, মাহমুদুল্লাহ, আবদুর রাজ্জাক, শফিউল
ইসলাম, আল-আমিন হোসেন।


পাকিস্তান : আহমদ শেহজাদ, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মাকসুদ, মিসবাহ উল হক,
উমর আকমল, ফাওয়াদ আলম, শহিদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ তালহা, উমর গুল, সাইদ আজমল,
আবদুর রহমান।


নতুনখবর.কম