ইবিতে শিক্ষক নিয়োগে মেধার অবমূল্যায়ন

বি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে
মেধার মূল্যায়ন না করে কম মেধাবীদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২৩তম সিন্ডিকেট সভায় এই নিয়োগ
দেওয়া হয়েছে বলে সিন্ডিকেট সভা সূত্রে জানা গেছে। তাছাড়া ইংরেজি বিভাগে ৩
টি বিজ্ঞাপিত পদের বিপরিতে ৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মেধার
মূল্যায়ন না করা এবং বিজ্ঞাপিত পদের অতিরিক্ত নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়েছে
বিভাগের সিনিয়র শিক্ষকরা। এদিকে চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রলীগের সাবেক
নেতাকর্মীদের চাকরির বিষয়টি সিন্ডিকেটে না উঠায় তারা আন্দোলন অব্যহত রাখার
পাশাপাশি কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। চাকরি প্রত্যাশীদের আন্দোলনের ফলে
গাড়ি না আসায় গত সোমবার থেকে ক্যাম্পাসের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক
কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাস সচল করতে প্রশাসন যদি কার্যকরি
ভূমিকা না নেয় তবে আবারও অনির্দিষ্ট কালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় অচলাবস্থা
সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল  ইসলামী
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারের বাংলোয় অনুষ্ঠিত
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২৩ তম সিন্ডিকেট সভায় ইংরেজি বিভাগে মেধাবীদের বাদ দিয়ে
কম মেধাবীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইংরেজি বিভাগে ৩ টি পদের
বিজ্ঞাপ্তি দেওয়া হলেও নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের কোটা পূরুন করতে ৮ জনকে
নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন উক্ত বিভাগের
সিনিয়র শিক্ষকরা। মেধাবীদের বাদ দিয়ে মোটা অংকের টাকা দেনদরবারের মাধ্যমে
শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে ক্যাম্পাসে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আর এই নিয়োগ
বানিজ্যের অর্থ বিভাগের প্রভাবশালী শিক্ষকদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে বলে
অভিযোগ পাওয়া গেছে।


সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, ইয়াকুব আলী নিয়োগ না দিলে সিন্ডিকেট সভার
এক সদস্য নিয়োগ ফাইলে সই করতে অস্বীকৃতি জানায়। এই প্রাথী হানিফ সাহেবের
প্রার্থী বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক সিনিয়র নেতা
জানিয়েছে, সিন্ডিকেট সভার এক প্রভাবশালী সদস্য ইয়াকুব আলীর কাছ থেকে ১৫ লাখ
নিয়েছেন।


সূত্রানুযায়ী, নিয়োগ প্রাপ্ত ৮ জনের মধ্যে ফেরদৌসি আক্তার ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার  এসএসসি, এইচসি, অনার্স, মাস্টার্স সব কয়টিতেই
২য় বিভাগ। এছাড়া অনার্স মাস্টার্সে কোন পজিশন নেই বলে জানা গেছে। ইয়াকুব
আলি নামের অন্য প্রার্থী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাষ্টার্সে
সেকেন্ড কাস পায় এবং তার কোন পজিশন নাই। সজিব কুমার ঘোষ জাহাঙ্গিরনগর
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাষ্টার্সে ২য় বিভাগ পান এবং তিনি অনার্সে ৩য়
স্থান ও মাষ্টার্সে ১ম স্থান অধিকার করেন। প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস নামের
অন্য প্রার্থী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাষ্টার্সের উভয়টিতে ২য়
বিভাগে ২য় স্থান অধিকার করেন। সনিয়া শারমিন নামের অন্য একজন ঢাকা
বিশ্ববিদ্যাল থেকে অনার্স মাস্টার্স উভয়টিতে ২য় বিভাগ পেলেও কোন পজিশন নেই।
লিটন বোরন বিশ্বাস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সে ২য় বিভাগে ৩য় স্থান
এবং মাস্টার্সে জিপিএ-৩.৫২। শারমিন সুলতানা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
অনার্সে ২য় বিভাগে ১ম স্থান। এক্ষেত্রে অনার্স মাস্টার্স উভয়টিতে ১ম স্থান
ধারী প্রার্থী থাকলেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


এদিকে সৌদি আরবের ইউনেসকো এফিলিয়েটেড ঝাজেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
হোসাইন লিটন নামের একজন প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘উপস্থিত সকলের মধ্যে
আমার রেজাল্ট ভাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমার সাড়ে চার বছরের
অভিজ্ঞতা থাকলেও অজ্ঞাত কারনে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক
বিভিন্ন জার্নালে ১০ টিরও বেশি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি দাবি
করেন।

অন্য দিকে চাকরির দাবিতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদরে আন্দোলনে
ক্যাম্পাসে গাড়ি না আসায় সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির
হয়ে পড়েছে। ফলে শেসনজট বাড়ার সম্ভাবনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শক্ষার্থীরা।
আর এই সিন্ডিকেটে ছাত্রলীগ নেতাদের চাকরি না হওয়ায় তাদের আন্দোলন অব্যহত
থাকায় আবারো অনির্দিষ্ট কালের জন্য ক্যাম্পাস অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে।


এ বিষয়ে ছাত্ররীগের সাবেক কমিটির একাধিক সিনিয়র নেতা চরম ক্ষোভ প্রকাশ
করে বলেন, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহীনুর রহমান ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হওয়ায়
তিনি তার ইচ্ছামত শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি ভিসি হওয়ার স্বপ্নে আমাদের
জীবন নিয়েও খেলছেন। আমরাও কোন ভাবেই ছাড় দেব না। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত
থাকবে। প্রয়োজনে আরো কঠোর আন্দোলনের ডাক দেব।’

সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার
মূল্যায়ন না করায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন
শিক্ষক মন্ডলী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে
বলেন,‘ ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে যাদের লবিং ভাল ছিল শুধূমাত্র তারাই
নিয়োগ পেয়েছে। ফলে মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছে।’


নিয়োগের বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বলেন,‘ সব ধরনের নিয়মকানুন মেনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার নতুনখবরকে
বলেন,‘পত্রিকায় ৩ জন শিক্ষকের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও ঐ বিভাগে ৬ টি পদ
ফাঁকা আছে। এজন্য সকলের মতামতের ভিত্তিতে মেধাবী ও যোগ্য ৮জন শিক্ষক নেয়া
হয়েছে। ক্যম্পাস সচলের ব্যাপারে তিনি বলেন ৩ এপ্রিলের সিন্ডিকেটকে কেন্দ্র
করে কিছু সমস্যা হলেও আগামী কাল থেকে  সবকিছুই স্বাভাবিক ভাবেই চলবে’।

উল্লেখ্য, এক বছরে ইংরেজি বিভাগে ১৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে প্রশাসন। বিগত
ভিসি, প্রো-ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগে অর্থ বানিজ্য, দূর্নীতি, দলীয়করন,
আত্মীয়করনসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে শিক্ষকদের আন্দোলনের কারনে ২০১২সালের
অক্টোবর থেকে প্রায় ৬ মাস ক্যাম্পাস অচল ছিল।

নতুনখবর.কম/সোআ